নিজস্ব প্রতিবেদক | ওয়াশিংটন ডিসি
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা নামার পর ফুটবল কিংবদন্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি সফটওয়্যার টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার নার্গিস পারভীন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত তার এই লেখায় ফুটবলের সৌন্দর্য, খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান এবং কিংবদন্তিদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে, যা অনেক ফুটবলপ্রেমীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।
. শিরোপা হাতে স্পেন দলের ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীতকুমিল্লার সন্তান নার্গিস পারভীন ২০১১ সালে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাস করছেন এবং একজন সফটওয়্যার টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী এবং তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যারা বর্তমানে শিক্ষার্থী।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ফুটবল শেষ পর্যন্ত শুধু একটি ট্রফির গল্প নয়; এটি প্রতিভা, আবেগ, সম্মান ও ভালোবাসার গল্প।” তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়দের নিয়ে অতিরিক্ত ট্রল, বিদ্বেষ কিংবা অযথা সমালোচনা কখনোই একজন মহান খেলোয়াড়ের সম্মান কমাতে পারে না। বরং খেলাটির সৌন্দর্য উপভোগ করাই একজন প্রকৃত ফুটবলপ্রেমীর পরিচয়।
বিশেষভাবে লিওনেল মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শতাব্দীতে মেসির মতো খেলোয়াড় খুব কমই জন্ম নেন। প্রতিভা, ধারাবাহিকতা, বিনয় এবং কোটি মানুষের ভালোবাসা অর্জনের যে অনন্য সমন্বয় মেসির মধ্যে রয়েছে, তা ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একই সঙ্গে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লুকা মদ্রিচ, রবার্ট লেভানডভস্কি, নেইমার জুনিয়র, কেভিন ডি ব্রুইনাসহ এই প্রজন্মের আরও অনেক তারকার অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তার ভাষায়, তারা শুধু ম্যাচ খেলেননি; তারা একটি পুরো প্রজন্মের আবেগ, স্বপ্ন এবং অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে নার্গিস পারভীন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একজন নিবেদিত সমর্থক। বিশ্বকাপ চলাকালে ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝেও তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় প্রতিটি ম্যাচ একসঙ্গে উপভোগ করার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, বিশ্বকাপ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করারও একটি বিশেষ উপলক্ষ।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে নার্গিস পারভীন নবম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, খেলোয়াড়রা একসময় বিদায় নেন, জার্সি বদলে যায়, ট্রফি হাতবদল হয়; কিন্তু প্রকৃত কিংবদন্তিরা কখনো হারিয়ে যান না। তারা ইতিহাসে, স্মৃতিতে এবং কোটি ভক্তের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন।
প্রবাসে বসবাস করলেও দেশের ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগাভাগি করে নেওয়া নার্গিস পারভীনের এই আবেগঘন বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার লেখাকে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান এবং ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার একটি সুন্দর প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

