ওয়াশিংটন প্রতিদিন ডেস্ক:

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দ্য ফরেন করেসপন্ডেন্টস’ ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (FCC South Asia)

আয়োজকদের প্রকাশিত আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, “Sheikh Hasina’s Homecoming” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি দেশি-বিদেশি সংবাদদাতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের ঘটনার পর এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক ভার্চুয়াল বক্তব্য। একই সঙ্গে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মাহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবায়দাহ আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএ-এর পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শেখ সেলিম ওয়াশিংটন প্রতিদিনকে বলেন,

“দ্য ফরেন করেসপন্ডেন্টস’ ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবে বিবেচিত হবে। অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁর সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন, মানবাধিকার, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকেরা তাঁদের মতামত তুলে ধরবেন। আমরা আশা করি, এই আলোচনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গঠনমূলক মতবিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।”

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত আন্তর্জাতিক সম্পাদক স্বপ্নীল খান ওয়াশিংটন প্রতিদিনকে বলেন,

“আমার বিশ্বাস, আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এই অনুষ্ঠানটি শুধু একটি ভার্চুয়াল বক্তব্য নয়; এটি শেখ হাসিনার সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পূর্বপ্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেত্রী কীভাবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অনুকূল পরিবেশে দেশে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। আমরা আশাবাদী, এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, জনগণের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। একই সঙ্গে, এই আয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রী তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও আমরা আশা করছি।”

এদিকে, নিউইয়র্ক স্টেট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রায়হান মাহমুদ ওয়াশিংটন প্রতিদিনকে বলেন,

“ইতিহাস আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে। ৫ আগস্টের এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। তাঁর সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি, তিনি আবারও বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়াবেন।”

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আগাম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীরাই অনুষ্ঠানে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তবে পোস্টারে ব্যবহৃত “Homecoming” বা সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আয়োজকদের ঘোষণার অংশ। শেখ হাসিনা কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি বা দলীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

অনুষ্ঠানটি ৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নয়াদিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়াম (Sir Mark Tully Auditorium), এবি-১৯, মথুরা রোড (AB-19 Mathura Road)-এ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলেও আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *