রিপোর্টার: মোঃ রবিউল ইসলাম
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর জেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের মাঠিভাঙ্গা এলাকার দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে কাঁচা রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এলাকার গ্রামবাসী, প্রবাসী ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা। জনস্বার্থে গৃহীত এই উদ্যোগে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাবের সভাপতি মো. জুয়েল ফকির বলেন, “এই সড়কটি মস্তফাপুর বড় ব্রিজ থেকে কেন্দুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। শুধু তাই নয়, সড়কটি যদি পিচ ঢালাই করে পাকা করা হয়, তাহলে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দারাও সহজেই এ পথে চলাচল করতে পারবেন। ফলে এটি দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মো. জুয়েল ফকির আরও বলেন, বর্তমান মাদারীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আনিসুর রহমান খোকন তালুকদারের প্রতি আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি—জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে যেন দ্রুত সরকারি উদ্যোগে সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “সড়কটি আধুনিক মানে পাকা করা হলে মস্তফাপুর থেকে কোটালীপাড়া হয়ে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি বাস চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ সার্বিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম (তারিফ ফকির) বলেন, অতীতেও এই এলাকার উন্নয়নে গ্রামবাসী নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাবের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। এবারও এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থে একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।

এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মেম্বার মো. মামুন ফকির। তিনি রাস্তা উন্নয়নের এই জনকল্যাণমূলক কাজে আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এই আন্তরিক সহযোগিতা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত মো. মামুন ফকির ফোনের মাধ্যমে এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে রাস্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা ও সমন্বয় করছেন। তিনি জানান, নিজ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এমন জনকল্যাণমূলক কাজে পাশে থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে গৃহীত যেকোনো উদ্যোগে তাঁর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ী ওসমান ফকির বলেন, “এলাকাবাসী শুধু আর্থিক সহায়তাই করেননি, এই উদ্যোগে এলাকার তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাব’-এর স্বেচ্ছাসেবকরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণকাজে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। কেউ ইট ও বালু সরবরাহ করেছেন, কেউ রাস্তা সমান করার কাজে কায়িক পরিশ্রম করেছেন, আবার কেউ নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে সহযোগিতা করেছেন। এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের প্রশংসা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকাবাসী, প্রবাসী ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

এলাকার পরিচিত মুখ মো. আকবর সরদার বলেন, এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। ওই তহবিলের অর্থ দিয়ে রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ইট, বালু, সিমেন্ট, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ক্রয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের উদ্যোগে এমন জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে এবং সামাজিক ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

লিটন মাঝি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই কাঁচা রাস্তার কারণে বর্ষা মৌসুমে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নানা সমস্যার সম্মুখীন হতেন। রাস্তা উন্নয়নের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, গ্রামবাসী, প্রবাসী ও তরুণদের এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ অন্যান্য এলাকার জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্থায়ীভাবে রাস্তা পাকাকরণের উদ্যোগ নেবে।

মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাব’-এর পক্ষ থেকে এই মহৎ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রম, আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা সকল গ্রামবাসী, প্রবাসী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

এছাড়া এই মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে যাঁরা প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাচ্চু ফকির, রাজ্জাক মাতুব্বর, মো: কালাম ঢালী, শিক্ষক কিবরিয়া ফকির, ডাক্তার জাবেদ শেখ , আউয়াল সিকদার , বাবুল মাতুব্বর, আসালাদ মাতুব্বর, জহর লাল দে, মো: মনির চকিদার, মো: মুজাই ফকির ও আরিফ ফকির। পাশাপাশি মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং এলাকার সর্বস্তরের গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কাজে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করেছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *