মামুন খান
ওয়াশিংটন ডিসি
ওয়াশিংটন ডিসি: বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা বন্ড নীতি চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই নীতির আওতায় ব্যবসায়িক (বি-১) ও পর্যটন (বি-২) ভিসার নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (ভিসা বন্ড) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত এক ফেডারেল নোটিশে এ তথ্য জানিয়েছে।

নতুন বিধিমালা আগামী ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এটি সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পূর্ববর্তী ভিসা-ইতিহাস, অভিবাসন বিধি মেনে চলার রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে কনস্যুলার কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন, কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড প্রয়োজন হবে কি না।
যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে বাংলাদেশসহ মোট ৫০টি দেশের নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, কিউবা, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মরিতানিয়া, তিউনিসিয়া, সেনেগাল, গিনি, গিনি-বিসাউ, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, সেশেলস, তাজিকিস্তান, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, ভানুয়াতুসহ আফ্রিকা, এশিয়া, ক্যারিবীয় ও লাতিন আমেরিকার আরও বেশ কয়েকটি দেশ।
কেন এই বন্ড নীতি
মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের প্রবণতা কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার শর্ত ভঙ্গের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে বিবেচিত হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগের সুযোগ থাকবে। এর আগে পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ডের বিধান ছিল। বর্তমান নীতির আওতায়ও আবেদনকারীর ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করতে পারবেন।
বন্ড কি ফেরত পাওয়া যাবে?
নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড নির্ধারণ করা হবে, তাদের ভিসার সব শর্ত মেনে চলতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে অথবা বন্ডের শর্ত পূরণ হলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
সমালোচনায় মানবাধিকার ও অভিবাসন সংগঠন
নতুন এই নীতির সমালোচনা করেছে বিভিন্ন অভিবাসন ও মানবাধিকার সংগঠন। তাদের দাবি, উচ্চ অঙ্কের বন্ড বৈধ পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং অনেক যোগ্য আবেদনকারী শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণে ভিসার আবেদন করা থেকে বিরত থাকতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই, আবেদন ফি পুনর্নির্ধারণ এবং আবেদনকারীদের বিভিন্ন তথ্য আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অভিবাসন আইন আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। তবে সমালোচকদের মতে, নতুন এসব ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ওয়াশিংটন প্রতিদিন/আন্তর্জাতিক ডেস্ক
