নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাদারীপুর জেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের মাঠিভাঙ্গা এলাকার দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে কাঁচা রাস্তা পাকা করার উদ্যোগে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এলাকার গ্রামবাসী, প্রবাসী এবং তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা। জনস্বার্থে গৃহীত এই উদ্যোগে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাবের সভাপতি মো. জুয়েল ফকির বলেন, এই সড়কটি মস্তফাপুর বড় ব্রিজ থেকে কেন্দুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। শুধু তাই নয়, সড়কটি যদি পিচ ঢালাই করে পাকা করা হয়, তবে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দারাও সহজেই এ পথে চলাচল করতে পারবেন। ফলে এটি দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও এই এলাকার উন্নয়নে গ্রামবাসী নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাবের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। এবারও এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থে একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।
মো. জুয়েল ফকির আরো বলে, বর্তমান মাদারীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার -এর প্রতি আন্তরিক আবেদন জানিয়ে বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে যেন অতি দ্রুত সরকারি উদ্যোগে সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সড়কটি আধুনিক মানে পাকা করা হলে মস্তফাপুর থেকে কোটালীপাড়া হয়ে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি বাস চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ সার্বিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মেম্বার মোঃ মামুন ফকির। তাঁর এই আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ‘মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাব’-এর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। রাস্তার নির্মাণকাজে সহযোগিতা করা অত্যন্ত মহৎ একটি উদ্যোগ। নিজ এলাকা কেন্দুয়া ইউনিয়ন এবং সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজে আমি সবসময় অংশগ্রহণ করব, ইনশাআল্লাহ। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে এই রাস্তার বিষয়ে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।”
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, এই উদ্যোগে এলাকার তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাব’-এর স্বেচ্ছাসেবকরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণকাজে সরাসরি অংশ নেন। কেউ ইট ও বালু এগিয়ে দিয়েছেন, কেউ রাস্তা সমান করার কাজে কায়িক পরিশ্রম করেছেন, আবার কেউ নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে সহযোগিতা করেছেন।
এছাড়া এলাকার বাসিন্দা ও প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। সেই তহবিলের অর্থ দিয়ে রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ইট, বালু, সিমেন্ট, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ক্রয় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের উদ্যোগে এমন জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই কাঁচা রাস্তার কারণে বর্ষা মৌসুমে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নানা সমস্যার সম্মুখীন হতেন। রাস্তা উন্নয়নের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, গ্রামবাসী, প্রবাসী ও তরুণদের এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ অন্যান্য এলাকার জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্থায়ীভাবে রাস্তা পাকাকরণের উদ্যোগ নেবে।
‘মাঠিভাঙ্গা যুব উন্নয়ন ক্লাব’-এর পক্ষ থেকে এই মহৎ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রম, আর্থিক সহায়তা এবং নানাভাবে সহযোগিতা করা সকল গ্রামবাসী, প্রবাসী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo.
